গর্ভাবস্থার সপ্তম মাসে শিশুর বৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত হয়। এ সময় মায়ের শরীরে অতিরিক্ত পুষ্টির চাহিদা তৈরি হয়, তাই খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা খুব জরুরি। সঠিক খাবার শুধু শিশুর শারীরিক বিকাশেই নয়, মায়ের শক্তি ও স্বাস্থ্যের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ৭ মাসের গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি পুষ্টিকর খাবার তালিকা দেওয়া হলো—
৭ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা
সকালের নাশতা (৭:০০–৮:০০ টা)
- এক গ্লাস গরম দুধ (চিনি ছাড়া হলে ভালো)
- ১টি সেদ্ধ ডিম অথবা সবজি দেওয়া অমলেট
- ২ টুকরো গমের রুটি বা ওটস
- সঙ্গে ১টি ফল (আপেল, পেয়ারা বা কলা)
উপকারিতা:
শরীরে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও শক্তি যোগায়; সকাল শুরু হয় হালকা ও পুষ্টিকর খাবারে।
বেলা ১০টার দিকে (হালকা খাবার)
- দই বা এক গ্লাস ফলের স্মুদি
- অথবা এক মুঠো বাদাম, কিশমিশ, আখরোপর্যাপ্ত পানি পান করুন
উপকারিতা:
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক এবং মায়ের ক্লান্তি দূর করে।
দুপুরের খাবার (১:০০–২:০০ টা)
- ভাত বা আটার রুটি
- ডাল বা মাছ/চিকেন (অল্প তেলে রান্না করা)
- প্রচুর পরিমাণে সবজি (লাউ, পালং, শাক, গাজর ইত্যাদি)
- সালাদ (শসা, টমেটো, গাজর)
- শেষে ১ টুকরো পাকা ফল
উপকারিতা:
প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবারের ভালো উৎস—শিশুর ওজন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
বিকেলের নাশতা (৫:০০–৬:০০ টা)
- দুধ চা/গ্রিন টি (চিনি কম)
- মুড়ি, ছোলা, বা অল্প বিস্কুট
- ফলের টুকরো বা ফলের রস
উপকারিতা:
শরীর সতেজ রাখে ও রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে।
রাতের খাবার (৮:০০–৯:০০ টা)
- হালকা ভাত বা রুটি
- সবজি বা হালকা মাছ/ডিম
- ডাল বা স্যুপ
- ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস গরম দুধ
উপকারিতা: হজমে সহায়ক এবং শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পূরণ করে।
অতিরিক্ত পরামর্শ
- দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন।
- অতিরিক্ত তেল, ভাজাপোড়া ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন।
- ক্যাফেইন ও কোমল পানীয় কমিয়ে দিন।
- খাবার সময় কখনও বাদ দেবেন না।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিন।
উপসংহার
৭ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য হতে হবে সুষম, হালকা ও পুষ্টিকর। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে খেলে মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মনে রাখবেন, এই সময়ের প্রতিটি খাবারই আপনার গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করে।
Tags
স্বাস্থ্যের
